শওকত হোসেন সৈকত, ধামরাই প্রতিনিধি:
ঢাকার ধামরাইয়ে ঈদের দিন রাতে একটি ব্যাটারি কারখানায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ ভ্যান এবং লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক অভিযানে পাবনার ভেড়া, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জাহিদ হাসান (৩৫), চাঁদ মিয়া (৬২) ও শোয়েব মিয়া (৩৯)।
পুলিশ জানায়, গত ২১ মার্চ গভীর রাতে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকার একটি ব্যাটারি কারখানায় হামলা চালায়। তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে বেঁধে ফেলে এবং প্রায় ৫৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কারখানার মালিক মো. রুবেল বাদী হয়ে ধামরাই থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করে পুলিশ। প্রথমে জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করা হলে তার কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনার ভেড়া এলাকা থেকে চাঁদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে চাঁদ মিয়া জানান, তিনি লুট হওয়া মালামাল ১৭ লাখ টাকায় কিনে ২৪ লাখ টাকায় শোয়েব মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শোয়েব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে শোয়েব মিয়ার গুদাম থেকে লুট হওয়া ব্যাটারির কাঁচামাল গলিয়ে তৈরি ৪৯টি সিসার গোলবার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব সিসার মোট ওজন প্রায় ১,৪৪৯ কেজি, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত আরও একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত দুটি পিকআপের মোট মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওসার সুলতান জানান, এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান আছে।